রবিবার ১৪ জুন ২০২৬
Online Edition

কোন কোন ধারণা ও অনুমান গোনাহ

এইচ এম জুবায়ের : আশরাফুল মাখলুকাত মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন ও অপমানিত করার জন্য আরেকজন আশরাফুল মাখলুকাতই যথেষ্ট! মানুষকে খাটো করা, অবজ্ঞা করা বা অপমানিত করার জন্য বনের পশু-জানোয়ার আসেনা। মানুষই মানুষের ক্ষতি করে। ইসলাম এমন এক বিজ্ঞানময় জীবন ব্যবস্থার নাম যাতে মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়েছে। সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে যত বিপর্যয় এসেছে তা মূলত মানুষের হাত ধরেই এসেছে। বনের পশুরা দলবেঁধে এসে মানব সভ্যতাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে এম নজির ইতিহাসে নেই। আজকে আমরা মানব সভ্যতার মর্যাদা ও অবস্থান সমুন্নত রাখতে সু-ধারণার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করতে চাই।
ধারণা বলতে- কোন ব্যক্তি, বস্তু বা অন্য কিছু সম্পর্কে পূর্বানুমানকে বুঝায়। সেই অনুমানটি ভাল-মন্দ উভয়ই হতে পারে। ভাল ধারণার ব্যাপারে ইসলামে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে তীব্র আপত্তি আছে খারাপ ধারণার ব্যাপারে। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-হুজুরাত এর ১২ নং আয়াতে আল্লাহপাক বলেন- “হে ঈমানদারগণ, বেশী ধারণা ও অনুমান করা থেকে বিরত থাকো কারণ কোন কোন ধারণা ও অনুমান গোনাহ...।” আলোচ্য আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরকারকগণ চার প্রকারের ধারণার কথা বলেছেন।
প্রথমত-আল্লাহ্, তাঁর রাসূল (সাঃ) এবং ঈমানদারদের ব্যাপারে ভাল ধারণা পোষণ করা অত্যন্ত পছন্দনীয়।
দ্বিতীয়ত-বিচারক রায় দেয়ার সময় ধারণার ভিত্তিতেই রায় দেন। তিনি ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট স্থানে উপস্থিত ছিলেন না বিধায় দুই পক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করে তার যেদিকে মন সায় দেয় সেদিকেই রায় দেন। এমন ধারণা জায়েজ।
তৃতীয়ত-কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের দৈনন্দিন আচার-আচরণ, কর্মসূচী ও কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে যদি এমন বিষয় ফুটে উঠে যার ভিত্তিতে ভাল ধারণার কোন যুক্তি থাকতে পারেনা তবে এমন ক্ষেত্রে খারাপ ধারণা পোষণ করা নির্দিষ্ট সীমাতে বৈধ। তবে বৈধ খারাপ ধারণা পোষণের চূড়ান্ত সীমা হচ্ছে তার সম্ভাব্য দুষ্কৃতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নিছক ধারণার ভিত্তিতে আরো অগ্রসর হয়ে তার বিরুদ্ধে কোন তৎপরতা চালানো ঠিক নয়।
চতুর্থত-চতুর্থ প্রকার ধারণাটি মূলত হারাম। তা হল- বিনা কারণে কারো প্রতি সন্দেহবশত খারাপ ধারণা পোষণ করা। কারো ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে খারাপ ধারণা নিয়েই শুরু করা অনুচিত। কিংবা এমন লোকদের ব্যাপারে খারাপ ধারণা পোষণ করা যাদের বাহ্যিক চাল-চলন ও ব্যবহার সৎ মানুষের সাক্ষ্য বহন করে। কোন লোকের ব্যাপারে যদি ভাল-মন্দের দিকটি সমান সমান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তবে তার সম্পর্কেও খারাপ ধারণা পোষণ নাজায়েজ। সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কারো প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করার ব্যপারে ইসলামে কঠিনভাবে নিষেধ করা হয়েছে। আমরা আজকে এই চতুর্থ প্রকারের ধারণা নিয়েই কথা বলতে চাই।
ধারণা, অনুমান ও সন্দেহ নিয়ে আলোচনার পূর্বে আমাদেরকে মানব সৃষ্টির লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের দিকে খেয়াল করতে হবে। সূরা আয- যারিয়াত এর ৫৬ নং আয়াতে আল্লাহপাক বলেন- “জিন ও মানুষকে আমি শুধু এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমার দাসত্ব করবে।” তারপূর্বে আল্লাহ ফেরেশতাদের একত্র করে বললেন, “আমি পৃথিবীতে আমার প্রতিনিধি প্রেরণ করতে চাই।” ফেরেশতাগণ আল্লাহর ঘোষণা শুনে মন্তব্য করল- “আপনি কি এমন কাউকে পাঠাতে চান যারা সেখানে ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি ও রক্তপাত ঘটাবে?”
ফেরেশতাদের অনুমান/ধারণা খ-ন : ফেরেশতাগণকে আল্লাহ্র মহাপরিকল্পনার কথা জানানো হয়নি। তাদেরকে আল্লাহ্পাক যতটুকু জানান তাদের জ্ঞান কেবল ততটুকুতেই সীমাবদ্ধ। তাই তারা মানব সৃষ্টি নিয়ে উৎসাহী মন্তব্য করে বসলো। আল্লাহ তাদের ধারণা খণ্ডন করে বললেন, “নিশ্চয়ই আমি যা জানি তোমরা তা জান না।”
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আল্লাহ্পাক জানিয়ে দিলেন- যে বিষয়ে প্রকৃত জ্ঞান নেই সে বিষয়ে শুধু সন্দেহ করে বক্তব্য দেয়া বা মন্তব্য করার কোন সুযোগ নেই। ফেরেশতাগণ পরবর্তীতে তাদের এরূপ ধারণার জন্য অনুতপ্ত হন।
খিলাফতের দায়িত্ব পালন : ‘খলিফা’ শব্দের সহজ বাংলা অর্থ হল প্রতিনিধি। যেমন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অন্তত একজন করে প্রতিনিধি বিশ্বের প্রায় দেশেই রয়েছে। যারা সেদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের স্বার্থ এবং দুই দেশের মধ্যে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক রক্ষা ও উন্নয়ন করে থাকেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পৃথিবীর সব দেশে একই সময়ে অবস্থান করা সম্ভব নয়। তাই তারা রাষ্ট্রদূত ও অ্যাম্বাসির মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধি নিয়োগ করে থাকেন। প্রতিনিধির কাজ হল- তার দেশের রাষ্ট্র ও সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা। প্রতিনিধি তার দেশের রাষ্ট্র ও সরকারের নীতির বাহিরে কোন কাজ করতে ও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। সরকার ও সংবিধান অনুমোদন দেয়না এমন কোন কাজ করলে তাকে সেখান থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়।
তেমনিভাবে মানুষও পৃথিবীতে আল্লাহ্ তা’য়ালার পাঠানো প্রতিনিধি। আল্লাহ যুগে যুগে নবী-রাসূল (আঃ) ও আসমানী কিতাব পাঠানোর মাধ্যমে বলে দিয়েছেন- কী কাজ করতে হবে এবং কী করা যাবে না। বৈধ-অবৈধের সীমারেখা ঠিক করে দেয়া হয়েছে। এই সীমার মধ্যে থেকে আল্লাহ্র খিলাফত প্রতিষ্ঠার কাজ করতে হবে। আল্লাহ্ প্রদত্ত যোগ্যতা ও উপায়-উপকরণকে কাজে লাগিয়ে তাঁর জমিনে দ্বীন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব আঞ্জাম দিতে হবে। আল্লাহ্ তা’য়ালা সূরা আশ-শুরা’র à§§à§© নং আয়াতে ঘোষণা করেছেন- “তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই সব নিয়ম-কানুন নির্ধারিত করেছেন যার নির্দেশ তিনি নূহ্কে দিয়েছিলেন এবং (হে মুহম্মদ) যা এখন আমি তোমার কাছে অহীর মাধ্যমে পাঠিয়েছি। আর যার আদেশ দিয়েছিলাম আমি ইবরাহীম (আ:), মূসা (আ:) ও ঈসাকে (আ:)। তার সাথে তাগিদ করেছিলাম এই বলে যে, এ দ্বীনকে কায়েম করো এবং এ ব্যাপারে পরস্পর ভিন্ন হয়ো না। (হে মুহম্মদ) এই কথাটিই এসব মুশরিকের কাছে অত্যন্ত অপছন্দনীয় যার দিকে তুমি তাদের আহ্বান জানাচ্ছো। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আপন করে নেন এবং তিনি তাদেরকেই নিজের কাছে আসার পথ দেখান যারা তাঁর প্রতি রুজু হয়।”
দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজ ও সু-ধারণা : দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজ কোন একক ব্যক্তির পক্ষে আঞ্জাম দেয়া সম্ভব নয়। দলবদ্ধভাবে এই কাজ করতে পবিত্র কুরআনে বারবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সূরা আলে ইমরানের ১০৩ নং আয়াতে আল্লাহ্ বলেন- “তোমরা সবাই মিলে আল্লাহ্‌র রুজ্জু মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো এবং দলাদলি করো না।” সুতরাং অনিবার্য কারনে দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে সবধরনের মানুষের সমাবেশ ঘটবে। যাদের মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা, ধারণ ক্ষমতা সহ নানাবিদ পার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক। আরব থেকে অনারব কিংবা প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্য এই বন্ধন দুর্বল করে দিতে পারে কু-ধারণা ও সন্দেহ। অনুমান নির্ভর কোন সিদ্ধান্ত ও আলোচনা মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। তাই ইক্বামাতে দ্বীনের কাজে সু-ধারণা অতি আবশ্যক।
অনুমাননির্ভর আলোচনা গ্রহণযোগ্য নয় : শোনা কথার উপর ভিত্তি করে অনুমাননির্ভর আলোচনা কাক্সিক্ষত ফল বয়ে আনতে পারে না। শোনা কথা বলে বেড়ানো পাপ। মানবতার মহান শিক্ষক রাসূল (সাঃ) বলেছেন- “কোন ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে সে যা শুনে তা বলে বেড়ায়।” কথাটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা নিজস্ব পরিবেশে এই কাজটি অহরহ করে থাকি। কোন ব্যক্তি অনুপস্থিত কোন এক ব্যক্তি সম্পর্কে একটি প্রসঙ্গ উত্থানপন করলে আমরা সবাই তা মুখরোচক করে আলোচনায় মশগুল হয়ে পড়ি। অথচ তা একান্তই ধারণাপ্রসূত কথা। যার আলোচনা গীবত বা বুহ্তানের পর্যায়ে চলে যায়। ‘দ্বীনি ভাই বলেছেন’ শুধু এতটুকুতেই আস্থা-বিশ্বাস রাখা যায় না। যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন আছে। এরূপ ভিত্তিহীন আলোচনায় গৃহীত সিদ্ধান্ত বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। স্বয়ং রাসূলে করীমকেও (সাঃ) আল্লাহ্ এরূপ করতে নিষেধ করেছেন। সূরা আল হুজুরাতের ৬ নং আয়াতে আল্লাহ্ বলেন-“হে ঈমান গ্রহণকারীগণ, যদি কোন ফাসেক তোমাদের কাছে কোন খবর নিয়ে আসে তাহলে তা অনুসন্ধান করে দেখ। এমন যেন না হয় যে, না জেনে শুনেই তোমরা কোন গোষ্ঠীর ক্ষতি করে বসবে এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হবে।” ভাল নিয়ত ও কল্যাণকর চিন্তা থেকে কাজটি করা হলেও তা গুনাহের পর্যায়ভুক্ত। অনেকটা হারাম পথে অর্জন করে মসজিদ-মাদ্রাসায় দান করার মত!
অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিষেধ : সামাজিক জীব হিসেবে সমাজে এবং ইক্বামাতে দ্বীনের কাজ করতে গিয়ে দলীয় পরিসরে চলতে গেলে পারস্পরিক মতপার্থক্য, মনোমালিন্য হতেই পারে। প্রয়োজন হতে পারে কারো ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের। এক্ষেত্রে আশপাশের বিশ্বস্ত মানুষের পরামর্শ গ্রহণে আপত্তি নেই তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে অবশ্যই আলোচনা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে কথা না বলে তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা মারাত্মক জুলুম। আর আল্লাহ্ জালেমকে পছন্দ করেন না।(....)
ইসলাম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যক্তির জবানকেই বেশী প্রাধান্য দেয়। পর্যাপ্ত সাক্ষী প্রমাণ না থাকলেও অনেক সময় বুঝা যায় ব্যক্তি অপরাধটি করেছে। কিন্তু সে যদি মুখে স্বীকার না করে তবে তাকে শুধু সন্দেহের বশবর্তী হয়ে শাস্তি দেয়া সঠিক নয়। অন্তরের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আল্লাহ্র এখতিয়ারাধীন। স্বয়ং নবীকেও এ ব্যাপারে আল্লাহর উপর ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে।
মুসলমানের নিরাপত্তায় অন্য মুসলমান : রাসূল (সাঃ) এরশাদ করেন- “সে ব্যক্তি মুসলিম হতে পারবেনা যতক্ষণ না তার মুখ ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ।” আরাফাতের ময়দানে বিদায় হজ্জের ভাষণে উপস্থিত লাখো জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন- “হে জনগণ! তোমরা আমার কথা শোন! কারণ আমি জানি না এরপর আর কোনদিন তোমাদের সঙ্গে এই স্থানে মিলিত হতে পারব কি-না। নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত ও মাল-সম্পদ, তোমাদের পরস্পরের উপরে এমনভাবে হারাম, যেমনভাবে তোমাদের আজকের এই দিন, এই মাস, এই শহর তোমাদের জন্য হারাম’ (অর্থাৎ এর সম্মান বিনষ্ট করা হারাম)।” এ দু’টি হাদিস থেকে বুঝা যায় মুসলমানে ইজ্জত-সম্মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সাধারণ কোন বিষয় নয় যে দু’জন একত্রিত হয়েই অনুপস্থিত তৃতীয় কোন ব্যক্তির ব্যাপারে লাগামহীন আলোচনা শুরু করে দিলাম। সুতরাং মানুষ সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করা বা সন্দেহপ্রবণতার কোন সুযোগ ইসলামে নেই। ভাই ভাই হয়ে সু-ধারণা ও সু-সম্পর্কের ভিত্তিতে দ্বীনের কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
সন্দেহপ্রবণতা নিয়ে কিছু বাণী চিরন্তনী : এ পর্যায়ে সন্দেহপ্রবণতা নিয়ে বিশ্ববিখ্যাত মনিষীদের কয়েকটি উক্তি উল্লেখ করছি। কার্ভেন্টিস বলেছেন- “দোষী লোকদের মধ্যে সন্দেহ সবসময় প্রখরভাবে বিরাজ করে।” এমিলি ডিকেনসন বলেছেন- “অতিরিক্ত সন্দেহ অমঙ্গল ডেকে আনে।” জন উইলসন বলেন- “যে যাকে সন্দেহ করে তার ভাল কাজকেও সে স্বীকৃতি দিতে পারে না।” অল্টার ম্যালোনা বলেন- “সৎলোকেরা কখনো সন্দেহের নিকট নিজেকে সমর্পণ করে না।” হযরত লোকমান (আ:) বলেন- “সন্দেহপ্রবণতা ত্যাগ করতে না পারলে দুনিয়ায় তুমি কোনো বন্ধু খুঁজে পাবে না।” মনিষীদের আলোচ্য উক্তিগুলোতে অনুমান বা সন্দেপ্রবণতার কু-ফল উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসলাম আল্লাহ্র মনোনীত একমাত্র জীবন ব্যবস্থা। ইসলামের অনুসারী মুসলমানগণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি। ইক্বামাতে দ্বীনের কাজকে শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে মানুষের জন্য ফরজ করা হয়েছে। তাই শ্রেষ্ঠ জীবন বিধানের অনুসারী মুসলমানগণ তাদের রব নির্ধারিত শ্রেষ্ঠ কাজ সম্পাদন করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। বিদ্বেষবশত কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা বা অনুমান নির্ভর কথা ও সিদ্ধান্ত গ্রহনের মাধ্যমে কাউকে ছোট করা কোন মুসলমানের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। সর্বদা ইতিবাচক মানসিকতা নিয়েই দাওয়াতে দ্বীনের কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ